চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার এমন দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে না। সোমবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বন্দরসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ প্রশাসনিক কাজ নয়; এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে এমন কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, সরকারের সিদ্ধান্তে জনসম্পৃক্ততা নেই এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ীক মহল ইতিমধ্যেই ব্যাংকিং খাতের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও রপ্তানি শ্লথতার মতো সমস্যায় ভুগছে। এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন—“উত্তরণের অধিকার থাকা আর প্রস্তুত থাকা এক নয়। জনগণের নির্বাচিত সরকারই এমন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।”
অন্যদিকে, এ বিষয়ে ভিন্ন মত জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাজনৈতিক সরকার যেমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, অন্তর্বর্তী সরকারও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের শুনানি শেষে তিনি জানান, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই রিট গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের মতোই দায়িত্ব পালন করতে পারে।
রিটকারীদের দাবি—নির্বাচিত সরকারের আগে চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত জাতীয় সম্পদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলই বন্দর বিদেশিদের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা করছে।
হাইকোর্ট ইতোমধ্যে রুল জারি করেছে এবং ৪ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেছে। ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটি দীর্ঘদিন ধরে সাইফ পাওয়ারটেক পরিচালনা করলেও তাদের মেয়াদ শেষ হলে এটি নৌবাহিনীর চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের হাতে যায়। ২০১৯ সালে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে পিপিপি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর বর্তমানে চুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।



