tanaka
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিপ্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পে নীতিসহায়তা ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস চায় বিটিএমএ

প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পে নীতিসহায়তা ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস চায় বিটিএমএ

দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের কাছে পাঁচ দফা নীতিসহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। পাশাপাশি শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ বাড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে বিটিএমএর ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে বিটিএমএ সভাপতি দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে টেক্সটাইল ও স্পিনিংসহ শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শিল্পের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ পরিস্থিতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিটিএমএ জানিয়েছে, জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে পাঁচটি নীতিগত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবের একটি হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের আদেশ নম্বর ৫১/২০২৬/কাস্টমস/৫১৯ অনুযায়ী এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাভুক্ত ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা।

বিটিএমএর দাবি, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকলে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কটন সুতার আমদানি কমবে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি করা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সুতার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের প্রস্তাব করেছে বিটিএমএ। একই সঙ্গে এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখতে সব ধরনের রপ্তানিতে অন্তত ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও নীতির সামঞ্জস্য তৈরিতে সমন্বিত ‘টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি’ প্রণয়নের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। এ নীতির আওতায় শুল্ক, কর, জ্বালানি, অর্থায়ন ও রপ্তানি সহায়তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

শিল্পাঞ্চলে বর্তমানে উন্নত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়। পাশাপাশি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি, যাচাই-বাছাই এবং আইনানুগ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে বিটিএমএ।

প্রতিনিধি দলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের বর্তমান সমস্যাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, এসইউপি, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি, জন বিভাগের সচিব এ. জে.এম. সালাহউদ্দিন নাগরী এবং প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

বিটিএমএর প্রতিনিধি দলে সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল ছাড়াও সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শামীম ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার, সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি, বর্তমান ও সাবেক পরিচালক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ছিলেন। মোট ২৩ জন প্রতিনিধি এ সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন।