প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো। সাক্ষাতে শ্রমমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শ্রম সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই ২০২৭) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার (পামির) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তিনি এ অর্জনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যে সরকারের অর্জিত বিভিন্ন কূটনৈতিক সাফল্যেরও প্রশংসা করেন।
আলোচনায় শ্রম খাতে সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আইএলও মহাপরিচালক বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্তরিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
এ সময় শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎ শেষে আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শ্রম খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



