tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদঅন্যান্যপৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ ১৭ অঞ্চল

পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ ১৭ অঞ্চল

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে, আর এর ফলে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ও অঞ্চল অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্তত ১৭টি অঞ্চল আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩২ থেকে ৮৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে বিশেষ করে নিচু দ্বীপরাষ্ট্র ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।

দ্য জেরুজালেম পোস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে উঠে এসেছে ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের চিত্র।

অস্তিত্ব সংকটে দ্বীপরাষ্ট্রগুলো

মালদ্বীপ
বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশগুলোর একটি মালদ্বীপ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির প্রায় ১ হাজার ১০০ দ্বীপের ৮০ শতাংশই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টুভালু ও কিরিবাতি
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র টুভালুর প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা শতাব্দীর শেষে পানির নিচে চলে যেতে পারে। অন্যদিকে কিরিবাতিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ
এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দ্বীপ ইতোমধ্যে ক্ষয় ও প্লাবনের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কিছু দ্বীপ আংশিকভাবে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৭ শতাংশ সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় কৃষি উৎপাদন এবং জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ফলে জলবায়ুজনিত অভিবাসনের চাপও বাড়ছে।

হুমকির মুখে ঐতিহাসিক ও উন্নত অঞ্চলের শহরগুলো

ভেনিস, ইতালি
বিশ্বখ্যাত পর্যটন নগরী ভেনিস প্রতিবছর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভূমি ধসের কারণে শহরটি বারবার বন্যার কবলে পড়ছে।

মিয়ামি, যুক্তরাষ্ট্র
নিচু ভূখণ্ড এবং ছিদ্রযুক্ত চুনাপাথরের ওপর নির্মিত হওয়ায় মিয়ামি দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। শুধু উপকূল নয়, মাটির নিচ দিয়েও পানি প্রবেশের আশঙ্কা বাড়ছে।

নেদারল্যান্ডস
উন্নত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও দেশটির প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত। পাশাপাশি প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এমন অঞ্চলে বাস করে, যেখানে বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য অঞ্চল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাউরু, টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জ, পালাউ, ভানুয়াতু, সেশেলস, সামোয়া, ফিজি এবং বাহামাসসহ আরও কয়েকটি দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চল একই ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি।

পরিবেশ ও মানবসভ্যতার জন্য সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অঞ্চল হারিয়ে গেলে শুধু ভূখণ্ডই নয়, বিলুপ্ত হবে বহু অনন্য বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য। একই সঙ্গে লাখো মানুষ তাদের বসতি, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতি, অভিবাসন, খাদ্যনিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।