স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সীমান্তে সম্ভাব্য পুশব্যাক ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর পুশব্যাক বাড়ার আশঙ্কা খুব বেশি নেই। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা ‘গায়েবি’ ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এসব মামলা পর্যালোচনা করবে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে চার্জশিট বা এজাহারসহ আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক যাচাই শেষে সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সিআরপিসির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সহিংসতা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে যেন নিরপরাধ ব্যক্তি বা সাংবাদিক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে জেলাভিত্তিক মামলার তালিকাও চাওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগের সমন্বিত কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এটি তাদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা হবে। একইসঙ্গে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র দ্রুত ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক-মহাসড়ক বা রেলপথের পাশে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে টহল দেবে। ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল চালু করা হবে এবং মহাসড়ক সিসিটিভির আওতায় রাখা হবে। ফেরিঘাটগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হবে, যাতে অন্তত সাত দিন চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। পরে ধাপে ধাপে চামড়া ঢাকায় আনার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন জুয়ার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইডি এ বিষয়ে কাজ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। জুয়া, মাদকসহ এসব অপরাধ দমনে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।



