পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে, যেখানে শত শত আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানও পাল্টা হামলায় পাকিস্তানি বাহিনীর বড় ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, তালেবান সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের দেশের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে এবং এখন থেকে এটি ‘খোলামেলা যুদ্ধ’ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আফগান বাহিনী আগে যৌথ সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে, এবং পাকিস্তান বাধ্য হয়ে প্রতিরক্ষা হিসেবে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, আফগানিস্তানে তাদের অভিযান প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় চলমান রয়েছে।
উভয় পক্ষের হতাহতের দাবি
পাকিস্তান বলেছে, ২২টি স্থানে চালানো অভিযানে ২৭৪ তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। তাদের দাবি, ৮৩টি তালেবান পোস্ট ধ্বংস এবং ১৭টি দখল করা হয়েছে। পাকিস্তান জানায়, তাদের ১২ সৈন্য নিহত, ২৭ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ।
অপর দিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাতের অভিযানে ৫৫ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিছু মরদেহ আফগানিস্তানে আনা হয়েছে এবং কয়েকজনকে জীবিত আটক করা হয়েছে। আফগান বাহিনীও জানিয়েছে, তাদের ৮ সৈন্য নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
উভয় পক্ষের এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়া ও জালালাবাদসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব হামলায় ‘নিরীহ নাগরিক, শিশু ও নারী’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জালালাবাদে এক কৃষকের বাড়িতে বোমা হামলায় তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হয়েছেন। পাকতিকা প্রদেশের একটি শিশু ধর্মীয় বিদ্যালয়েও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
মুজাহিদ জানিয়েছেন, আফগান সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের নজরদারি বিমান এখনো আফগান আকাশসীমায় উড়ছে। আফগান পক্ষ জোর দিয়ে বলেছেন, তারা বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সীমান্তের সামরিক কার্যক্রম
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুর্রাম ও বাজাউর জেলায় আফগান তালেবান বাহিনীকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভিতরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য প্রতিমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বলেন, ‘পাকিস্তান তালেবান যোদ্ধারা ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা করেছিল, তবে সেগুলো অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থায় ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানি হয়নি।’



