tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকপাকিস্তানে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায়, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে (PAF) অত্যাধুনিক এয়ার-টু-এয়ার (আকাশে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য) ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।

ওয়াশিংটনের সরকারি নথি অনুসারে, নতুন চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ২০৩০ সালের মধ্যে পাবে AIM-120D-3 ধরনের মধ্যপাল্লার উন্নত এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। এই চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অস্ত্র তৈরির দায়িত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রে-থিয়ন (Raytheon)

এই চুক্তির সুবিধাভোগী শুধু পাকিস্তানই নয়; তুরস্কসহ আরও কয়েকটি মিত্র দেশও এই চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র পাবে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ (সাবেক প্রতিরক্ষা বিভাগ)।

পাকিস্তানের সামরিক শক্তিতে বড় ধাপ

AIM-120D-3 হচ্ছে AMRAAM ক্ষেপণাস্ত্র পরিবারের সর্বাধুনিক সংস্করণ। এটি শত্রু যুদ্ধবিমান এবং আসন্ন ক্ষেপণাস্ত্রকে দূর থেকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে পাকিস্তানের F-16 যুদ্ধবিমান বহরের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অনেক গুণে বাড়বে বলে মত দিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে পাকিস্তান AIM-120C-5 সংস্করণ ব্যবহার করছে, যা তারা ২০১০ সালে F-16 ব্লক ৫২ যুদ্ধবিমান কেনার সময় পেয়েছিল। নতুন সংস্করণটি পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি পরিসীমা ও নির্ভুলতা দিতে সক্ষম।

একজন সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেন, “AIM-120D-3 ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা দেবে এবং এটি তাদের সামরিক আধুনিকায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

চুক্তির পেছনের কূটনৈতিক তৎপরতা

বেশ কয়েক বছর ধরেই পাকিস্তান আধুনিক প্রজন্মের AMRAAM ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। অবশেষে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিদ্দিকী যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। ওই সফরের পর আলোচনায় অগ্রগতি ঘটে।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। এসব বৈঠক দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের বার্তা দেয়।

পাকিস্তানের অবস্থান ও লক্ষ্য

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (ISPR) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“পাকিস্তানের সামরিক উন্নয়ন এখন দক্ষতা, আত্মনির্ভরতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিযোগিতা নয়, বরং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জন।”

তিনি আরও জানান, পাকিস্তান পূর্ব বা পশ্চিম—সব উৎস থেকেই উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে প্রস্তুত। পাশাপাশি, দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: সামা টিভি