‘নো ওয়েজ বোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতি কার্যকর, সাংবাদিক সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক দুই দিন ছুটি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিলসহ ৩৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।
শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এই দাবিগুলো উপস্থাপন করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের সিনিয়র সহসভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, সহসভাপতি খায়রুল বাশার, একেএম মহসিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
দাবিগুলোর মূল বিষয়সমূহ
বিএফইউজের ৩৯ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো—
‘নো ওয়েজ বোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতি কার্যকর এবং নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ও দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন।
সাংবাদিক সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় কালাকানুন বাতিল।
সাংবাদিকদের জন্য সাপ্তাহিক দুই দিন ছুটি নিশ্চিত করা।
সাংবাদিক হত্যাসহ সব নির্যাতনের বিচার সম্পন্ন ও নতুন করে হয়রানি বন্ধ।
সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য পৃথক শ্রম আদালত গঠন।
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সব মাধ্যমের জন্য সমন্বিত জাতীয় গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন।
টেলিভিশন ও অনলাইন সাংবাদিকদের জন্যও অভিন্ন ওয়েজ বোর্ড চালু করা।
রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতি বন্ধ ও বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ।
মফস্বল সাংবাদিকদের সম্মানজনক বেতন প্রদান ও বিজ্ঞাপননির্ভর চাপ বন্ধ করা।
ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও দুর্ঘটনা বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা।
নারী সাংবাদিকদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ-সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা।
গণমাধ্যমের নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করা ও হয়রানি বন্ধ।
বিজ্ঞাপন রেট বাড়ানো এবং সরকারি বিজ্ঞাপন বিল দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা।
রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবমুক্ত রাখা।
নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা।
নিউজপ্রিন্ট আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাস করে সংবাদপত্রকে সেবামূলক শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
গণমাধ্যম খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান।
সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাধ্যতামূলক করা।
সাংবাদিক নেতাদের বক্তব্য
কাদের গনি চৌধুরী বলেন,
“আমরা এমন একটি সংবাদমাধ্যম চাই, যেখানে সাংবাদিকরা কোনো চাপ ছাড়াই সত্য অনুসন্ধান করতে পারবেন। সাংবাদিকতার মূল শক্তি হবে দায়িত্ববোধ ও সত্যনিষ্ঠা।”
তিনি আরও বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সাংবাদিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
একই দাবিতে শুক্রবার সারা দেশেও সাংবাদিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।



