tanaka

মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানের ট্রাভার্সি শহরে মার্কিন বিমান বাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিভাগের একটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় বিমানটি...
প্রচ্ছদটপ নিউজ‘নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে’

‘নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে’

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এ বিষয়ে আপনাদের বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফ প্রতিষ্ঠার সময়কার বাস্তবতা ও বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে।

তরুণ বয়স থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রতিনিয়ত এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। তবে এই বাহিনীর সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব পালনকালে থেকেই আমি এসএসএফের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত।”

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত বৃহৎ জানাজা আয়োজনেও এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে। এ জন্য তিনি বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। সাহস, কৌশল, পেশাদারিত্ব এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এসএসএফের সর্বদা এগিয়ে থাকতে হবে।

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এসএসএফ তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে নিজের গাড়িবহরের আকার সীমিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে বাহিনীকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

জনসভা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জটিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এসএসএফকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই ধরনের পরিস্থিতি বাহিনীর দক্ষতা আরও বাড়াতে সহায়ক বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সদস্যরা এ সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহার করবেন।

তিনি জানান, ২০০২ সালের পর সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এসএসএফের ‘রেড বুক’ পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এটি বাহিনীর কার্যপদ্ধতি, নীতিমালা ও আইনি সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও সদস্যদের থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এসএসএফের প্রতিটি সদস্যকে সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সবশেষে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আপনাদের প্রধান দায়িত্ব। তবে দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এসএসএফকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে হবে।”