সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বাজেটেই নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তবে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে না; ধাপে ধাপে তা কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ১১ বছর পর বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। কমিশনের সুপারিশ আংশিকভাবে সংশোধন করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর কর্মীরা মূল বেতনের একটি অংশ বৃদ্ধি পাবেন। পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাকি অংশ কার্যকর করা হবে এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে পুরো সুবিধা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রথম ধাপে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশে সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১,৬০,০০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পেনশন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সুপারিশে বলা হয়েছে—কম পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি, মাঝারি পেনশনে ৭৫ শতাংশ এবং উচ্চ পেনশনে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
ভাতা কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক ভাতা ২ হাজার টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। যাতায়াত ভাতা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য করার কথাও বলা হয়েছে।
বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রেও গ্রেডভিত্তিক পরিবর্তনের সুপারিশ রয়েছে—১ম থেকে ১০ম গ্রেডে তুলনামূলক কম হার এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে বেশি হারে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বেতন কমিশনের কাজও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



