tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকদিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ট্রেন বাতিল, আজ যন্তর মন্তরে জমায়েত

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ট্রেন বাতিল, আজ যন্তর মন্তরে জমায়েত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ চলছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে তীব্র যানজট ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও।

ভারতীয় রেলওয়ের এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, শনিবার ভোর থেকে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন বেশ কয়েকটি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে রেলওয়ে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২টার পর যাত্রার প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে ছেড়ে শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে ওই দুই স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল যেসব ট্রেনের, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। রেলওয়ের কোচিং ডিরেক্টরেটের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিক্ষোভের কারণে সংশ্লিষ্ট স্টেশন দুটির আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে। এ আশঙ্কা থেকেই ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় জারি করা নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে পুলিশ।

তবে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

গতকাল শুক্রবার আদালত বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে জনজীবন পুরোপুরি অচল করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালত এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না। অর্থাৎ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।

সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও বজায় রাখতে হবে।

বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগের মধ্যেই আদালতের এ পর্যবেক্ষণ জননিরাপত্তা ও নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি সামনে এনেছে।