tanaka

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

দেশের বাজারে আবারও কমেছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকদক্ষিণ আফ্রিকায় মেয়েদের স্কুল বন্ধ করছেন অপরাহ উইনফ্রে

দক্ষিণ আফ্রিকায় মেয়েদের স্কুল বন্ধ করছেন অপরাহ উইনফ্রে

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক ও উদ্যোক্তা অপরাহ উইনফ্রে জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় দুই দশক আগে প্রতিষ্ঠিত তার মেয়েদের আবাসিক স্কুলটি আগামী বছর বন্ধ হয়ে যাবে।

অপরাহ উইনফ্রে লিডারশিপ একাডেমি ফর গার্লস নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার পর কার্যক্রম বন্ধ করবে। এরপর জোহানেসবার্গের কাছে অবস্থিত স্কুলটির বিশাল আবাসিক ক্যাম্পাস চুক্তি অনুযায়ী স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

স্কুল বন্ধের সময় যেসব শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা শেষ করতে পারবে না, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব শিক্ষার্থীকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য পূর্ণ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই স্কুল থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা সম্পন্ন করেছে। সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মেয়েদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন অপরাহ উইনফ্রে।

২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এই স্কুল প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেন তিনি। জোহানেসবার্গের দক্ষিণে হেনলি-অন-ক্লিপ এলাকায় অবস্থিত স্কুলটি শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। প্রায় ৪ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এর আধুনিক ক্যাম্পাস।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি নানা বিতর্কেরও মুখোমুখি হয়। স্কুল বন্ধের ঘোষণা আসার পর অনলাইনে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দাবি করেন, অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে অপরাহ উইনফ্রে লিডারশিপ একাডেমি ফাউন্ডেশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে স্কুল বন্ধ করা হচ্ছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। বরং অপরাহ উইনফ্রে দক্ষিণ আফ্রিকায় শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। নতুন একটি বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী ছাত্রীদের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

৭২ বছর বয়সী অপরাহ উইনফ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা ছিল না; বরং তরুণীদের সম্ভাবনায় বিনিয়োগ করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, একটি ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শেষ হলেও শিক্ষার মাধ্যমে তরুণীদের জীবন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার আরও বেশি মেয়ের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

স্কুলের ক্যাম্পাস শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পর এটি কী কাজে ব্যবহার করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে গাউতেং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং এর মূল উদ্দেশ্য এগিয়ে নিতে কাজ করবে।

বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও ক্যাম্পাসটি গাউতেংয়ের মানুষের উপকারে ব্যবহার করা হবে এবং যে লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল, তা সম্মানের সঙ্গে বজায় রাখা হবে।