থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার চলমান সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় দেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সহিংসতার ফলে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় সাত লাখ মানুষ।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দেশ দুটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কাম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৩ জনকে বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এজেন্স ক্যাম্পুচিয়া প্রেস (এপিকে) জানিয়েছে, সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা থেকে আরও বহু মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই হিসাব কেবল প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা মানুষের সংখ্যা। যারা নিজ উদ্যোগে এলাকা ছেড়েছেন, তারা এতে অন্তর্ভুক্ত নন।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সব প্রদেশেই বেসামরিক জনগণ নিরাপদ এলাকায় সরে যাচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৭ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত কাম্বোডিয়ায় ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ম্যালি সোচেতা জানান, সংঘর্ষে একজন কাম্বোডীয় সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ওই সেনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নিহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি বুধবার জানান, সীমান্তবর্তী সাতটি প্রদেশ থেকে ৪ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত নয়জন সেনা ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৯০ জন।
এর আগে অক্টোবরে কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়া একটি শান্তিচুক্তি সই করেছিল। তবে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। গত জুলাইয়ে এক দফা সংঘর্ষে অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়। গত পাঁচ মাসে বিভিন্ন ঘটনায় ১৮ জন কাম্বোডিয়ান সেনা এখনও থাইল্যান্ডের হেফাজতে রয়েছেন।
জুলাই থেকে দুই দেশের স্থল সীমান্ত বন্ধ থাকায় সীমান্ত পারাপার ও বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।



