tanaka

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির আবেদনের সময় বাড়ল

বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন করে গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন করার সময়সীমা বাড়িয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন দাখিল করতে...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিতাপপ্রবাহে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকিতে: বিশ্বব্যাংক

তাপপ্রবাহে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকিতে: বিশ্বব্যাংক

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৮ কোটি বাড়বে। ফলে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কর্মসংস্থান, শ্রম উৎপাদনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোকে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা করে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি সুরক্ষার উপায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৫২ কোটি মানুষ বছরে অন্তত এক মাস বিপজ্জনক মাত্রার তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে পারেন। বর্তমানে এ ধরনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমছে, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শহরগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত চাপ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, শিশু ও বয়স্করা।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই শহরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তবে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা কর্মসংস্থান, জীবিকা ও প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা তৈরি করছে।

তিনি বলেন, তাপসহনশীল শহর গড়ে তোলা শুধু মানুষের নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং কর্মসংস্থান ধরে রাখা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্যও জরুরি।

প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহকে কেবল মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে না দেখে উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি নীতি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে তাপঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, কার্যকর হিট অ্যাকশন প্ল্যান, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের সুরক্ষা, টেকসই শীতলীকরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, আগাম সতর্কবার্তা উন্নত করা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে।

প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পরিচালিত রেজিলিয়েন্ট এশিয়া প্রোগ্রামের সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ফ্যাসিলিটি ফর ডিজাস্টার রিডাকশন অ্যান্ড রিকভারি (জিএফডিআরআর) এবং সিটি রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম (সিআরপি) সহায়তা করেছে।

এফসিডিওর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের প্রধান জন ওয়ারবার্টন বলেন, প্রচণ্ড গরম দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবিকা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে উৎপাদনশীলতা কমছে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী আরও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি শুধু জলবায়ু সংকট নয়, বরং উন্নয়ন সংকটও। তাই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে হিট অ্যাকশন প্ল্যান, নগর সবুজায়ন, তাপসহনশীল অবকাঠামো, আগাম সতর্কবার্তা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী শীতলীকরণ ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, উন্নত সমন্বয় এবং বাড়তি বিনিয়োগ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে সরকারগুলোর নেওয়া সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের শহরগুলো কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে টিকে থাকবে, নাকি তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে তাদের সক্ষমতা কমে যাবে। তাই মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এখনই তাপসহনশীলতায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।