জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার ইয়াও ওয়েনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি সেখানকার উষ্ণ আতিথেয়তা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দুই দেশের জনগণের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সফর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে সংসদীয় পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও মতবিনিময় বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া মংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য ডেপুটি স্পিকারসহ বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইয়াও ওয়েন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পিকার ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



