ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গোটা ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনেই প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি ও বিভিন্ন থিমভিত্তিক প্রচারণা নজর কেড়েছে।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভিপি পদে ৪৫, জিএস ১৯ এবং এজিএস পদে ২৫ জন। ৯টি আলোচিত প্যানেলসহ অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। হলগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। নিরাপত্তার প্রথম স্তরে থাকবে বিএনসিসি ও প্রক্টরিয়াল টিম, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ এবং তৃতীয় স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সরাসরি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে এবং ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে রাখবে।
ভোটগ্রহণ চলবে ৯ সেপ্টেম্বর, আর প্রচারণা শেষ হবে ৭ সেপ্টেম্বর। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে; তবে ছাত্রী হলে রাত ১০টার পর প্রচারণা নিষিদ্ধ।
এবারের প্রচারণায় অংশ নিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বামধারার প্রতিরোধ পর্ষদ, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, ছাত্র অধিকার পরিষদ, এবং ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ নামের বাম ছাত্রসংগঠনের যৌথ প্যানেলসহ বেশ কিছু স্বতন্ত্র প্যানেল। সকলেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং গণসংযোগের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রচারণা শুরু করেছে।
চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে সদস্য পদে রয়েছেন সবচেয়ে বেশি—২১৭ জন। এছাড়া ক্যারিয়ার, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, আইন, সাহিত্য, ক্রীড়া, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শতাধিক প্রার্থী।
নির্বাচন ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকবে এবং বাইরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত বাস সার্ভিস চালু করা হবে।
নির্বাচনকে ঘিরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়। এতে উপস্থিত সব প্রার্থী সিদ্ধান্তগুলোতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।



