সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো পরিকল্পনা করছে না এবং তারা তথাকথিত আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে না।
সৌদি আরবের ম্যাগাজিন আল-মাজাল্লা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, “ইসরাইলের সঙ্গে আমাদের বিরোধ অন্য আরব দেশের চেয়ে মৌলিকভাবে ভিন্ন। আব্রাহাম চুক্তি মূলত তাদের জন্য ছিল, যাদের ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বা দখলকৃত ভূখণ্ড ছিল না। কিন্তু আমাদের গোলান মালভূমি এখনো দখল করে রেখেছে ইসরাইল। এই অবস্থায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নই আসে না।”
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।
আল-শারা আরও জানান, বর্তমানে দামেস্কের মূল অগ্রাধিকার হলো জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ১৯৭৪ সালের প্রত্যাহার চুক্তির ভিত্তিতে দক্ষিণ সিরিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেবেন তিনি, যা হবে ১৯৬৭ সালের পর কোনো সিরিয়ান প্রেসিডেন্টের প্রথম অংশগ্রহণ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এই উপস্থিতি প্রমাণ করে, সিরিয়া আর বিচ্ছিন্ন নেই। এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আমাদের প্রত্যাবর্তনের একটি বার্তা।”
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে সিরিয়ার ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আহ্বান জানিয়েছিলেন, ইসরাইলের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে সিরিয়াকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। তবে সিরিয়ার পক্ষ থেকে সে সম্ভাবনা এখনই উড়িয়ে দেওয়া হলো।



