হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সংবাদমাধ্যম—সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। সংবাদমাধ্যমগুলোর অভিযোগ, তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়া ঠেকাতে আদালতের কাছে সাময়িক আদেশও চেয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এ বিষয়ে বুধবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলায় সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো বলেছে, হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তাদের দাবি, কোনো সরকার বা প্রশাসন সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে কিংবা কীভাবে সংবাদ পরিবেশন করবে, তা নির্ধারণ করে দিতে পারে না।
এর আগে গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এসব সংবাদমাধ্যম তার সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ ও ‘কাল্পনিক’ সংবাদ প্রকাশ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার দেওয়া আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হোয়াইট হাউস মুক্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা করছে না; বরং ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যমের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, এসব সংবাদমাধ্যম জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরোধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ট্রাম্পের সময়ে বড় সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ এবং হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল সংবাদমাধ্যমগুলোকে বেশি সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক দিনের মধ্যেই সোমবার হোয়াইট হাউস ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে একটি সরাসরি সম্প্রচার কার্যক্রম চালু করেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অর্জন তুলে ধরা হবে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামিল জাফর বলেন, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মার্কিন জনগণের কাছে নিয়মিত সরকারি প্রচারণা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



