যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইসরায়েল। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আহ্বানের পর ইসরায়েল আপাতত ইরানে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত রয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হবে।
চ্যানেল ১২ আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযান আগামী কয়েক দিন পূর্ণ মাত্রায় অব্যাহত থাকবে।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তার এসব বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইরানও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ইসরায়েল যদি নতুন করে হামলা চালায় কিংবা লেবাননে সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রাখে, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সোমবার (৮ জুন) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই পক্ষকে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের পক্ষ থেকে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা আসে।
ইরানের জরুরি সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া ঘাঁটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলো।’
তবে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননসহ অন্য যেকোনো স্থানে যদি আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তাহলে আগের তুলনায় আরও কঠোর ও শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
রোববার ভোরে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে রাজধানী বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর আগে এমন পদক্ষেপ না নিতে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছিল তেহরান।
আইআরজিসি তখন ঘোষণা দিয়েছিল, বৈরুতে হামলা হলে ইসরায়েলকে তার মূল্য দিতে হবে। সেই হুঁশিয়ারির পর রোববার রাতে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনী।
পরবর্তীতে ট্রাম্প ইসরায়েলকে প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তবে কয়েক ঘণ্টা নীরব থাকার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তেহরান, তাবরিজসহ একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালায় বলে জানা যায়। এরপর সোমবার সকাল পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।



