ঝড় ‘বায়রন’–এর তাণ্ডবের মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি হামলা থামেনি। ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রমের অভিযোগে উত্তর গাজার জাবালিয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট বন্যায় উপত্যকা প্লাবিত হওয়ায় তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে একজন শিশুসহ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
একদিকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা, অন্যদিকে ঝড়–বৃষ্টির প্রভাব—দুইয়ের চাপে গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন আরও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও ঠান্ডায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন শরণার্থীরা। উপত্যকার বহু রাস্তা, ত্রাণশিবির ও তাঁবু প্লাবিত হয়ে গেছে। ঝড়ে কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। পর্যাপ্ত সুরক্ষা না থাকায় অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ এখন বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকিতে। ৭৬০টির বেশি শরণার্থী শিবির ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পানি নিষ্কাশনের অভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এমন অবস্থায় হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে নীরবে প্রস্তুতি চলছে; তবে সময়সীমা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে হামাস বলেছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে তারা নিজস্ব প্রস্তাব দিয়েছে। গাজাবাসী অস্ত্র জমা দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্রভাণ্ডার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের পরিকল্পনা জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পুনর্গঠন শুরু করার সুযোগ দিতে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ইসরাইলের বক্তব্য, গাজার শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তাদের দাবি—গাজা উপত্যকাকে অস্ত্রমুক্ত করা হবে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে।



