জাহাজবাড়িতে ‘জঙ্গি সাজিয়ে’ ৯ তরুণকে হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ছয় আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ মোট আটজন। এর মধ্যে এ কে এম শহিদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারি এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বাড়িতে নয় তরুণকে আটক রাখা হয়। পরে সোয়াত ও সিটিটিসির সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করে এবং ঘটনাটি ‘জঙ্গি নিহত’ হিসেবে প্রচার করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিহতদের আগেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং কেউ কেউ দীর্ঘদিন ডিবি হেফাজতে ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের ওই বাসায় নিয়ে গিয়ে অভিযান নাটক সাজানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্লক রেইডের কথা বলে সেখানে উপস্থিত হন এবং গুলির ঘটনার পর জঙ্গি দমন অভিযান হিসেবে প্রচার চালানো হয়।
মামলার অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভয়ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ধরনের ‘জঙ্গি নাটক’ পরিচালিত হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।



