বরিশালের মুলাদীতে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে কবরস্থানের ইট খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই সাবেক মাদ্রাসা অধ্যক্ষের কবর। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের সেলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একই গ্রামের জয়নাল সরদার ওরফে জয়নাল মুন্সীর ছেলে শহীদুল ইসলাম সরদার (৫৫), তার ছেলে তামিম সরদার (৩০), স্ত্রী রেজওয়ানা পারভীন ওরফে আরজু (৪৫) এবং আরও ৪-৫ জন মিলে কবরস্থান থেকে ইট খুলে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুলাদীর চরলক্ষ্মীপুর ফাযিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মোদাচ্ছের হোসাইন এবং চরকালেখান নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা কুব্বাত আলীর কবর।
এলাকাবাসীর দাবি, জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে জায়গাটি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই কবরস্থান ভাঙা হয়েছে। কবরস্থানের জমি সমতল করে সেখানে গাছ লাগানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
মাওলানা মোদাচ্ছের হোসেনের ভাই মোনাব্বার হোসেন জানান, প্রায় ৭০ বছর আগে তাদের বাবা মাওলানা কুব্বাত আলী মারা যাওয়ার পর বাড়ির পাশের একটি জমিতে তাকে দাফন করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের মা, ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একই স্থানে সমাহিত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কবরস্থানটি ব্যবহৃত হলেও জমির মালিকানা নিয়ে আগে কখনো কোনো বিরোধ দেখা দেয়নি।
তিনি আরও জানান, প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে শহীদুল সরদার হঠাৎ ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। একই সঙ্গে কবরস্থান সরিয়ে জায়গাটিকে আবাদি জমিতে পরিণত করার কথা জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও শহীদুল নিজের দাবির পক্ষে কোনো দলিল বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার স্ত্রী, ছেলে ও অন্যদের নিয়ে কবরস্থানের ইট খুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মোনাব্বার।
এ ছাড়া শহীদুল সরদারের বিরুদ্ধে এর আগেও পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের গাছ কেটে নেওয়া এবং মোনাব্বার হোসেনের বাড়ির সীমানাপ্রাচীর থেকে ৭০টি টিন খুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, কবরস্থান ভেঙে ইট নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদুল ইসলাম সরদার ঘটনাটি স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, নতুন করে কবরস্থান নির্মাণের জন্য পুরোনো স্থাপনা ভেঙে ইট সরানো হয়েছে। শিগগিরই পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
সেলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহআলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কবরস্থানে হামলার বিষয়টি থানাকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



