tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদআদালতজবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানকে নিয়ে যা বললেন সাবেক সেনাপ্রধান

জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানকে নিয়ে যা বললেন সাবেক সেনাপ্রধান

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তার জবানবন্দিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর নানা অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে গত দেড় দশকের আওয়ামী শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বেচ্ছাচারী ভূমিকার কথাও উঠে আসে।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জিয়াউল আহসানের আচরণ ক্রমেই উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে। ওই সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, র‍্যাবের তৎকালীন ডিজি বেনজীর আহমেদের সঙ্গে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জিয়াউল আহসান এডিজি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট (এএসইউ) থেকে তিনি জানতে পারেন, কর্নেল জিয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত হয়ে পড়েছেন এবং এসব ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, জিয়াউল আহসান নিজের আবাসিক টাওয়ারে ব্যক্তিগত গার্ড নিয়োগ করেন, বাসায় অস্ত্র রাখেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। বিষয়টি জানার পর তাকে গার্ড সরিয়ে নিতে, ক্যামেরা খুলে ফেলতে, বাসায় অস্ত্র না রাখতে এবং অফিসিয়াল কোয়ার্টারের সামরিক নিয়ম-কানুন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এসব নির্দেশ অমান্য করে তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল তাকে জানান—জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তার মনে হয়েছে, তিনি এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন যার মস্তিষ্ক পাথর বা ইটের টুকরোর মতো কঠিন; যাকে বোঝানোর কোনো উপায় নেই। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকী, এমএসপিএম এবং তার কোর্সমেট কর্নেল (বর্তমানে মেজর জেনারেল) মাহবুবের ঘনিষ্ঠতার সুযোগে জিয়াউল আহসান সরাসরি তার নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন।

এই পরিস্থিতিতে তাকে রেললাইনের পশ্চিম পাশের ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করা হয়। তবে পূর্ব পাশের আবাসিক এলাকায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় লগ এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানকে। পরে আগাম অবহিত না করার কারণে তিনিও নিরাপত্তা উপদেষ্টার অসন্তোষের মুখে পড়েন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান আরও বলেন, ১৯৯৬–২০০১ সময়কালের রাজনৈতিক ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগকে দেশের একমাত্র ক্ষমতাসীন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নানা পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল এবং সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান উল্লেখযোগ্য।

তিনি অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনীতে যেসব কর্মকর্তা মেধাবী বা স্বাধীনচেতা ছিলেন, তাদের ‘বিএনপি বা জামায়াতপন্থি’ আখ্যা দিয়ে একে একে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাদের জায়গায় অতীত সম্পর্ক, আত্মীয়তার সূত্র কিংবা প্রমাণিত আনুগত্যের ভিত্তিতে অপেক্ষাকৃত অনুগত ও অযোগ্য কর্মকর্তাদের বসানো হয়। ২০০৯ সাল থেকেই ‘ক্লিন হার্ট’ ও জরুরি শাসনের সময় পরীক্ষিত একদল অনুগত কর্মকর্তা শেখ হাসিনার এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, শেখ হাসিনা মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকীকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের মাঝখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন এবং পিএসও এএফডির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি ও সামরিক কেনাকাটার ফাইল তার অনুমোদনের জন্য পাঠানো বাধ্যতামূলক করে তোলেন। শত শত কোটি টাকার সামরিক কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিলেও এসব বিষয়ে কোনো লিখিত নথি সংরক্ষণ করা হতো না।

এর ফলে কর্মকর্তারা বুঝে যান প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়। তারা নিজেদের চিফকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাছে তদবির শুরু করেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও সামরিক সংশ্লিষ্ট সুবিধা পেতে তারেক সিদ্দিকীর আশপাশে ভিড় জমাতে থাকেন। এতে সেনা সদর দপ্তরে তদবির ও চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়।

জবানবন্দিতে বলা হয়, তারেক আহমেদ সিদ্দিকী ধীরে ধীরে ডিজিএফআই, এনএসআই, এএফডি, বিজিবি, আনসার, এনটিএমসি, ডিজিডিপি ও র‍্যাবের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে বাধা পান, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিজের অনুগতদের বসান। তার নির্দেশনায় এসব সংস্থা গুম, খুন, অপহরণ, জমি দখল, চাঁদাবাজি, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গত ১৫ বছরে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৪ জানুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে ওই দিন সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।