ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রয়োগের মাধ্যমে বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীদের হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। একই ধরনের ঘটনা আসন্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাকসু) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চাকসু) নির্বাচনে ঘটতে পারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
ছাত্রদল এখন ‘নির্বাচনী ম্যাকানিজম প্রতিরোধ’ এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ’-এর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নেতারা জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে তারা আর কোনো ‘ভোট কারচুপি নির্বাচন’ হতে দেবেন না।
সাত বছর পর ডাকসু ও ১৮টি হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ভরাডুবি ঘটে। ডাকসুতে ২৮টি পদে কোনো জয় পায়নি তারা। হল সংসদ নির্বাচনে ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদে একমাত্র জগন্নাথ হলের ভিপি পদে বিজয়ী হন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী।
ছাত্রদল অভিযোগ করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘জামায়াতি স্বভাব’, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব ও পরিকল্পিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এই ফলের জন্য দায়ী। এই কারণে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি সীমিত হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তেমন সংযোগ তৈরি হয়নি।
ডাকসু নির্বাচনের পর ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। জাকসু নির্বাচনের সময়ও ভোটগ্রহণে অসংগতিসহ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসাইন।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাকসু ও ১২ অক্টোবর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, তারা এই নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, আঙুলের অমোচনীয় কালি এবং ম্যানুয়ালি গণনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, “প্রতিটি ক্যাম্পাসে নির্বাচনমুখী অংশগ্রহণ আমাদের লক্ষ্য। ডাকসু-জাকসুতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়া সত্ত্বেও আমরা দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে কিছু মেনে নিয়েছি। কিন্তু একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে ছাত্রদল আর কোনো বিকল্প ছাড়বে না।”
চাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নিরপেক্ষতা কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।”



