চীনের সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চলমান কঠোর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ছয়জন শীর্ষ জেনারেলসহ মোট ১৩ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন সদস্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে এনপিসির স্থায়ী কমিটির প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত ছয় সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের জেনারেল সু সুয়েচিয়াং। গত অক্টোবর মাসে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তার অনুপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছিল।
এ ছাড়া ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং কাংপিংও বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন।
শুধু সামরিক বাহিনী নয়, বেসামরিক প্রশাসন ও রাজনীতিতেও এই শুদ্ধি অভিযানের প্রভাব পড়েছে। আইনসভা থেকে অপসারিত অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জিনজিয়াং অঞ্চলের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক প্রধান এবং আর্থিক খাতের একজন শীর্ষ নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি নির্মূল এবং রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করতে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। সাম্প্রতিক এই বহিষ্কারের ঘটনা সেই অভিযানেরই সর্বশেষ উদাহরণ।
তাদের মতে, এ পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বেইজিং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না; বরং অভিযান আরও বিস্তৃত ও কঠোর হচ্ছে।
সূত্র: এসসিএমপি



