একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী, প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
দেশের এই গুণী শিল্পীর প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিত্রকলা, পাপেটশিল্প, শিশুতোষ অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মুস্তাফা মনোয়ারের অসামান্য অবদান জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর সৃজনশীল কর্ম, নান্দনিক চিন্তা ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় অনুপ্রাণিত করবে।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মুস্তাফা মনোয়ার দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। চিত্রকলার পাশাপাশি পাপেটশিল্প, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অনন্য অবদান তাঁকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক লাভ করেন।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার পুত্র। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও সৃষ্টিশীল অবদান বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।



