tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকগাজায় রক্তপাত: আর কতদিন নীরব থাকবে পশ্চিমা বিশ্ব?

গাজায় রক্তপাত: আর কতদিন নীরব থাকবে পশ্চিমা বিশ্ব?

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে সংঘটিত ঘটনাবলি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক, উদ্বেগ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাধিক প্রতিবেদনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক প্রাণহানি এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

সম্প্রতি, ২৩ জুন প্রকাশিত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি জনগণের, বিশেষ করে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে এসব ঘটনার বিস্তারিত নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে সেগুলোর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগেও ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর জাতিসংঘের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, তদন্তকারী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন একাধিক প্রতিবেদনে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংসস্তূপ, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের চিত্র প্রকাশিত হলেও, সমালোচকদের মতে পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল্যায়ন এবং ইসরাইলি সরকারের কিছু কর্মকর্তার বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক দাবি করছেন, গাজার ঘটনাবলিকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আরও কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তবে ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র এ বিষয়ে সতর্ক কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার করে চলেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকটের তুলনায় গাজার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিক্রিয়া অনেকটাই সংযত, যা দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর বহুল ব্যবহৃত বক্তব্য—‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে’—নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং অধিকৃত জনগণের অধিকার সম্পর্কেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্নটি অনেক ক্ষেত্রেই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, গাজায় সংঘটিত সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক অপরাধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় অবস্থান না থাকলে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। স্পেনসহ কয়েকটি দেশের কিছু নেতা প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেও, অধিকাংশ পশ্চিমা রাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান বজায় রেখেছে।

ইউক্রেন ও গাজা ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর নীতিগত অবস্থানের পার্থক্য নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সমালোচকদের মতে, একই ধরনের মানবিক সংকটে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে পশ্চিমা বিশ্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পক্ষ থেকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষকের দাবি, সমালোচনা মূলত কয়েকজন কট্টরপন্থী মন্ত্রী ও উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের ঘিরেই সীমাবদ্ধ থেকেছে; বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের জবাবদিহির প্রশ্নে তুলনামূলক নীরবতা দেখা গেছে।

এ ছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মামলাকে ঘিরেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, মামলার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

গাজার চলমান সংকট শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং বৈশ্বিক জবাবদিহি ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। পর্যবেক্ষকদের মতে, মানবিক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ যদি রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন হয়, তবে তা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও দুর্বল করে দিতে পারে।