যুক্তরাষ্ট্র গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং ভবিষ্যতের ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ২১ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে অবিলম্বে জিম্মি মুক্তি, ফিলিস্তিনিদের গাজায় অবস্থান এবং হামাসকে সাধারণ ক্ষমা প্রদানের মতো পদক্ষেপের কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, জানাচ্ছে টাইমস অব ইসরাইল। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আরব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, গাজার বাসিন্দাদের তাদের নিজ এলাকায় রাখার প্রস্তাব মার্কিন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। কারণ পূর্বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার দখল নিয়ে ২০ লাখ বাসিন্দাকে অন্যত্র স্থানান্তরের কথা বলেছিলেন। এছাড়া ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাও ট্রাম্পের নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়, কারণ তার প্রশাসন কখনো দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করেনি।
প্রস্তাবে ইসরাইলের জন্যও কিছু সুবিধাজনক প্রস্তাব রয়েছে। যেমন হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা এবং সেখানকার জনগণের উগ্রপন্থা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে নন। তিনি জাতিসংঘে বলেন, “৭ অক্টোবরের পর জেরুজালেম থেকে এক মাইল দূরে ফিলিস্তিনিদের একটি রাষ্ট্র দেওয়া হলো এক ধরনের উন্মত্ততা, যা ১১ সেপ্টেম্বরের পর আল-কায়েদাকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক মাইল দূরে রাষ্ট্র দেওয়ার মতো।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইসরাইলকে আমাদের গলায় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র চাপাতে দেওয়া হবে না।”
এ পরিস্থিতিতেও ট্রাম্প আরব নেতাদের সঙ্গে গাজা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে একটি চুক্তি সম্ভব। চার দিন ধরে তীব্র আলোচনার পরও চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আলোচনার ধারা অব্যাহত থাকবে, ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “এ আলোচনায় অঞ্চলের সব দেশ জড়িত, পাশাপাশি হামাস ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত।”
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৈঠকের পর বলেন, “আমাদের অধিবেশন খুব ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা গাজায় শান্তির জন্য ট্রাম্পের ২১ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি এবং এ বিষয়ে আশাবাদী।” তিনি আরও বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে আগামী দিনে আমরা অগ্রগতির কোনো ঘোষণা দিতে সক্ষম হব।”



