tanaka

দুই জেলায় নতুন পুলিশ সুপার

চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাটের দুই পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে। সেখানে নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দুই কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ...
প্রচ্ছদজাতীয়খালেদা জিয়ার প্রথম সাক্ষাৎকারের স্মৃতিচারণ করলেন আসিফ নজরুল

খালেদা জিয়ার প্রথম সাক্ষাৎকারের স্মৃতিচারণ করলেন আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম সাক্ষাৎকার নেওয়ার স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি জানান, সাংবাদিক জীবনের শুরুর দিকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লেখেন, তিনি অনেক আগে থেকেই খালেদা জিয়ার একজন ভক্ত ছিলেন এবং সাংবাদিক হিসেবে তিনি তাকে পছন্দ করতেন। ১৯৮৮–৮৯ সালের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সে সময় বিএনপির কার্যালয় ছিল ধানমন্ডিতে। সেখানেই খালেদা জিয়ার অফিসে বসে তিনি সাক্ষাৎকার নেন। লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর খালেদা জিয়া সেদিন মুখোমুখি প্রশ্ন করার সুযোগও দিয়েছিলেন।

সেই সময়কার পরিবেশ বর্ণনা করে তিনি লেখেন, বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন ফজলুর রহমান পটল এবং মহাসচিব ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার। ছাত্রদল সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি খালেদা জিয়ার কক্ষে প্রবেশ করেন। খালেদা জিয়া একটি বড় টেবিলের পেছনে বসেছিলেন, সামনে টেবিল ঘিরে রাখা চেয়ারে বসেন তিনি ও রিপন। কক্ষের অন্য প্রান্তে বেতের সোফায় বসেছিলেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

ড. আসিফ নজরুল লেখেন, লিখিত উত্তরগুলো খুব আকর্ষণীয় মনে না হওয়ায় সাক্ষাৎকারকে প্রাণবন্ত করতে তিনি একটি কঠিন প্রশ্ন করেন। এতে খালেদা জিয়া কিছুটা থমকে যান। এ সময় পেছন থেকে সাইফুর রহমান প্রশ্নের ধরন নিয়ে আপত্তি জানান। তখন তরুণ বয়সের রাগী মনোভাব থেকে তিনি সাইফুর রহমানকে বলেন, তিনি তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন না। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও খালেদা জিয়া তা সামাল দিয়ে হাসিমুখে প্রশ্নের উত্তর দেন। এরপর তিনি আরও চার-পাঁচবার খালেদা জিয়ার একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, পিএইচডি শেষ করে দেশে ফেরার পর তিনি কলাম লেখা ও টকশোতে অংশ নেওয়া শুরু করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অপবাদ, হয়রানি ও নির্যাতন শুরু হয়। এসবের মধ্যেও তিনি অসীম আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে অটল ছিলেন বলে মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল।

তিনি লেখেন, এ সময় থেকেই তিনি খালেদা জিয়াকে আরও বেশি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা করতে শুরু করেন এবং শেখ হাসিনার শাসনামলেও প্রকাশ্যে তার প্রতি এই শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানাতে কখনো বিরত ছিলেন না। তার মতে, দীর্ঘ ১৫ বছরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বিএনপির আর কাউকে খালেদা জিয়ার পক্ষে এত দৃঢ়ভাবে কথা বলতে শোনা যায়নি।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে আসিফ নজরুল লেখেন, আল্লাহ তাকে এর প্রতিদান দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের দিন প্রায় সারাটা সময় তিনি তার ও তার পরিবারের পাশে ছিলেন। তার সমাধিতে ফুল দেওয়া, প্রথম দোয়ায় শরিক হওয়া এবং জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহকে শেষ বিদায় জানানোর সৌভাগ্য তার হয়েছে। তিনি লেখেন, দেশের জাতীয় পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য খালেদা জিয়া সারাজীবন বহু বঞ্চনা ও কষ্ট সহ্য করেছেন এবং সেই পতাকা তার সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার সৌভাগ্যও তার হয়েছে।

সবশেষে ড. আসিফ নজরুল লেখেন, “আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া।”