ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়ে সেটিকে ‘ছিন্নভিন্ন’ করে দেওয়ার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ভিডিওটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরও খার্গ দ্বীপে হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। খবর রয়টার্সের।
রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘খার্গ দ্বীপ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে!!! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।’ তবে পোস্টে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
ভিডিওতে খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখা যায়। রয়টার্সের যাচাইয়ে জানা গেছে, এআই-নির্মিত বা কৃত্রিমভাবে পরিবর্তিত ছবি শনাক্ত করতে সক্ষম একটি সফটওয়্যারের বিশ্লেষণে ভিডিওটি সম্ভবত কৃত্রিমভাবে তৈরি।
ট্রাম্পের পোস্টটি খার্গ দ্বীপে হামলার হুমকি, নাকি সেখানে হামলা হয়েছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। তবে ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরও দ্বীপটিতে কোনো হামলা চালানোর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের পোস্ট নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেরও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে আঘাত এবং একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে।
ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ যুদ্ধ শুরুর আগে খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে দ্বীপটিতে হামলা হলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে দেশটির অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার হলে ইরান ‘দৃঢ়ভাবে জবাব’ দেবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।



