যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক স্থানীয় সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ ক্রমেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইনফ্লুয়েন্সার ও পরিচিতজনদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মেডিল লোকাল নিউজ ইনিশিয়েটিভের এক সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে এ চিত্র।
জরিপ অনুযায়ী, যেসব এলাকায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নেই বা খুব সীমিত—সেসব স্থানের ৫১ শতাংশ মানুষ স্থানীয় খবর সংগ্রহ করছে অ-পেশাদার উৎস থেকে। অর্থাৎ ফেসবুক গ্রুপ, বন্ধু-পরিবার, ইনফ্লুয়েন্সার কিংবা সার্চ ইঞ্জিনই হয়ে উঠছে তাদের প্রধান তথ্যভান্ডার। প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ থেকে স্থানীয় খবর দেখেন, আর ৪১ শতাংশ নির্ভর করেন স্থানীয় টেলিভিশন সংবাদের ওপর।
তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সংবাদমাধ্যম-স্বল্প এলাকাগুলোর অনেক বাসিন্দাই মনে করেন না যে তারা খবরের ঘাটতিতে ভুগছেন। তথাকথিত ‘নিউজ ডেজার্ট’ এলাকায় ৪৯ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন স্থানীয় খবর দেখেন, যেখানে সংবাদমাধ্যমসমৃদ্ধ এলাকায় এ হার ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষ খবর পাচ্ছেন বটে, কিন্তু তা সব সময় পেশাদার ও যাচাইকৃত সাংবাদিকতার মাধ্যমে নয়।
গবেষকদের মতে, এখানেই রয়েছে বড় ঝুঁকি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যে নাগরিকদের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে, তা তারা বুঝতেই পারছেন না। পেশাদার সাংবাদিকতার অভাব স্থানীয় সরকার ও ক্ষমতাবানদের জবাবদিহিতাও দুর্বল করে দিতে পারে। জরিপে আরও দেখা গেছে, সংবাদমাধ্যম-স্বল্প এলাকায় স্থানীয় সংবাদে আস্থার হার কম। যেখানে সংবাদমাধ্যম রয়েছে সেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ স্থানীয় সংবাদের ওপর আস্থা রাখেন, কিন্তু ‘নিউজ ডেজার্ট’ এলাকায় তা নেমে এসেছে ৪৬ শতাংশে। সাংবাদিকদের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততাও সেখানে তুলনামূলক কম।
গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ শতাংশ সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ৫ কোটি মানুষ এখন সীমিত স্থানীয় সংবাদ সুবিধার মধ্যে বসবাস করছেন। গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এ সংকট আরও প্রকট।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, স্থানীয় সাংবাদিকতার অবক্ষয় ভুল তথ্যের বিস্তার ত্বরান্বিত করতে পারে এবং নাগরিক অংশগ্রহণকে দুর্বল করে দিতে পারে। মানুষ খবর পাচ্ছেন, কিন্তু যাচাই করা সাংবাদিকতার পরিসর ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: পয়েন্টার



