কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, সঠিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার অভাবে অনেক সময় চাহিদার তুলনায় বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, ফলে একদিকে অপচয় বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকও ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মো. আহসানুজ্জামান লিন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং মো. জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে কৃষিপণ্যের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে অপচয় কমবে এবং কৃষক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই লাভবান হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি খাতে গবেষণার বিকল্প নেই। তাই গবেষণা ও উদ্ভাবনে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আনা হচ্ছে। উৎপাদন, বিপণন, প্রণোদনা, নতুন জাতের সম্প্রসারণ এবং কৃষির যান্ত্রিকীকরণ—সবকিছুই বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির ভিত্তি কৃষি। কৃষকের আয় ও জীবনমান উন্নত হলে জাতীয় অর্থনীতিও স্থিতিশীল হবে। একজন কৃষক যদি আগে থেকেই জানতে পারেন কোন ফসল কতটুকু উৎপাদন প্রয়োজন, তাহলে তিনি বেশি লাভবান হতে পারবেন।
সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি পোলট্রি খাতের টেকসই উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, উৎপাদন ব্যয় কমানো, দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও ক্ষুদ্র খামারিদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হচ্ছে। পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও উত্তরণের তিন ধাপের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর গোলাম হাফিজ কেনেডি ও প্রফেসর ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান।



