tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিককাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না: পাকিস্তান

কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না: পাকিস্তান

জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের ভূখণ্ড নয় এবং কখনোই এমন স্বীকৃতি পাবে না—এমন মন্তব্য করেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ইসলামাবাদ নয়াদিল্লির দাবি প্রত্যাখ্যান করে এ অবস্থান জানায়।

জাতিসংঘে পাকিস্তান মিশনের কাউন্সেলর ও রাজনৈতিক সমন্বয়কারী গুল কায়সার সারওয়ানি ‘লিডারশিপ ফর পিস’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে বলেন, কাশ্মীর ভারতের তথাকথিত অংশ নয়—কখনোই ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, জম্মু ও কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। এটি কেবল পাকিস্তানের নয়; জাতিসংঘেরও অবস্থান। ভারত নিজেই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে এনেছিল এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরিদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা প্রায় আট দশক পরও বাস্তবায়িত হয়নি।

সারওয়ানি অভিযোগ করেন, এর পরিবর্তে ভারত সেখানে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, মৌলিক স্বাধীনতা দমন করছে, স্বাধীন কণ্ঠরোধ করছে এবং অঞ্চলের জনমিতিক চরিত্র বদলানোর উদ্যোগ নিচ্ছে—যা আন্তর্জাতিক আইন ও দখলদার শক্তি হিসেবে ভারতের আইনি বাধ্যবাধকতার গুরুতর লঙ্ঘন।

সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ভারত নিজের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে চায়। তার দাবি, অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, সীমান্তের বাইরে রাষ্ট্রসমর্থিত হত্যাকাণ্ড এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, টিটিপি, ফিতনা আল-খারিজ, বিএলএ ও ফিতনা হিন্দুস্তানসহ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে ভারতের পৃষ্ঠপোষকতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আছে, যারা পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে ভারত বারবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়েছে। পাকিস্তান বরাবরই সংযম দেখিয়েছে এবং পেহেলগাম ঘটনার নিন্দায় নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পাকিস্তান স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের প্রস্তাব দিলেও ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভারতের আচরণকে ‘বেপরোয়া’ আখ্যা দিয়ে সারওয়ানি বলেন, এখানে আত্মরক্ষার কোনো প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নগ্ন আগ্রাসন। পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং ভারতীয় সামরিক ও বিমান চলাচল সংক্রান্ত সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সিন্ধু পানি চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারতের বক্তব্য তথ্য বিকৃতি এবং একটি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির ভুল ব্যাখ্যা। চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিত বা পরিবর্তনের কোনো বিধান নেই; এমন পদক্ষেপ সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের শামিল।