tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়কপ-৩১ সম্মেলনে তারেক রহমানকে চায় তুরস্ক

কপ-৩১ সম্মেলনে তারেক রহমানকে চায় তুরস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পর বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতির পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে তুরস্কের আনতালিয়া। সেখানে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে চায় আয়োজক দেশ তুরস্ক। ইতোমধ্যে তাকে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কপ-৩১-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি এবং বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

আনতালিয়ায় বসছে কপ-৩১

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে কপ-৩১। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) জানিয়েছে, সম্মেলনের মূল ভেন্যু হবে আনতালিয়া এক্সপো সেন্টার। আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জলবায়ু বার্তায় জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি সহায়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আনতালিয়ায় কপ-৩১ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে অংশ নিলে জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অর্থায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের দাবিগুলো বিশ্বনেতাদের সামনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কপ-৩১ ঘিরে বাংলাদেশের প্রস্তুতি

কপ-৩১-এ বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কার্বন মার্কেটসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দাবিও সেখানে তুলে ধরা হবে।

বাস্তবায়নমুখী জলবায়ু এজেন্ডা তুরস্কের

এবারের কপ-৩১-এ তুরস্ক শুধু আয়োজক দেশের ভূমিকায় থাকছে না, সম্মেলনের কর্মপরিকল্পনাকে বাস্তবমুখী করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। নিউইয়র্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুরাত কুরুম সম্মেলনের এজেন্ডা তুলে ধরেছেন।

তাদের পরিকল্পনায় নতুন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিদ্যমান জলবায়ু অঙ্গীকারকে বাস্তব প্রকল্প ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, শূন্য বর্জ্য, জলবায়ু-সহনশীল শহর, সবুজ শিল্পায়ন, খাদ্যনিরাপত্তা, মহাসাগর, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য ও ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ ১০টি ক্ষেত্র।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি, কারিগরি সহায়তা ও অর্থায়নের সঙ্গে বাস্তব প্রকল্পের সংযোগ ঘটাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে আঙ্কারা।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ কপ-৩১

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার পর আনতালিয়ায় জলবায়ু কূটনীতির পরবর্তী পর্বে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে ঢাকা। ফলে কপ-৩১ বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও দাবিগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন গতি দেখা যাচ্ছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠক হয়। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আনতালিয়ায় কপ-৩১ শুধু বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতির জন্যই নয়, ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।