tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনওমর সানীর সঙ্গে বিচ্ছেদ গুঞ্জনের খবরে যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মৌসুমী

ওমর সানীর সঙ্গে বিচ্ছেদ গুঞ্জনের খবরে যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মৌসুমী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানীর দাম্পত্য জীবনের বয়স তিন দশকেরও বেশি। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেছিলেন তারা। দীর্ঘ এই পথচলায় সংসার, সন্তান, অভিমান ও নানা আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি একাধিকবার তাদের বিচ্ছেদ নিয়েও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে সব আলোচনা পেছনে ফেলে এখনো একসঙ্গেই আছেন এই তারকা দম্পতি।

সম্প্রতি দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন ও মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ওমর সানী। এ সময় তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

ওমর সানী বলেন, ‘আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তাই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।’

এসব আলোচনা নিয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়াও জানান সানী। তিনি বলেন, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’

বিচ্ছেদের গুঞ্জনের বাইরে স্ত্রী মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেতা। সানীর ভাষায়, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশ্বাস ও ত্যাগকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সানী। তিনি বলেন, ‘আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’

মৌসুমীর কোন বিষয়গুলো এখনো তাকে আকৃষ্ট করে—এমন প্রশ্নের জবাবে সানী বলেন, ‘মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’

স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তার কাছে সন্তানদের মা হিসেবে। সানী বলেন, ‘একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।’

নিজেদের সংসারের একটি মজার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন তিনি। সানী বলেন, ‘দেখা গেল, আমি খেতে বসলাম, এই মাংসটা ফারদীন খাবে, এটা ফাইজা। ঠিক আছে। আমি অনেক সময় হাড্ডি চাবাই–চুবাই খাই। ভালোই লাগে এসব।’

মৌসুমীর আরেকটি গুণের কথাও উল্লেখ করেন সানী। তার ভাষায়, ‘মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ—দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই? এরপর আবার নিজেই বলবে—কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কী করতে হবে, কী করতে চাও। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।’

সানী ও মৌসুমীর সম্পর্কের শুরুটাও ছিল অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় তাদের। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই প্রথম কথা হয় দুজনের।

অন্য একটি ছবির ব্যস্ততার কারণে সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি মৌসুমী। মন খারাপ নিয়েই সেদিন ফিরেছিলেন ওমর সানী।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। সিলেটে ছবিটির শুটিংয়ে গিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্বই একসময় রূপ নেয় ভালো লাগায়।

মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ মুগ্ধ করে ওমর সানীকে। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং চলচ্চিত্রের কাছের দুজন পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর, ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।

এরপর পেরিয়ে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। নানা গুঞ্জন, অভিমান ও আলোচনা-সমালোচনা পেরিয়ে বিশ্বাস, ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে এখনো একসঙ্গেই আছেন মৌসুমী ও ওমর সানী।