tanaka

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির আবেদনের সময় বাড়ল

বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন করে গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন করার সময়সীমা বাড়িয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন দাখিল করতে...
প্রচ্ছদজাতীয়ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিম, মুরগি, ভোজ্যতেল, মসুর ডালসহ বিভিন্ন মসলা পণ্য। ফলে বাড়তি দামের চাপে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়। আগের দিন একই ডিম বিক্রি হয়েছিল ৩২ থেকে ৪০ টাকায়।

বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৩০ টাকায়, যা একদিন আগেও ছিল ২২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এ মুরগির দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং এক মাস আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে।

এদিকে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, জিরা, লবঙ্গ ও চিনির দামও বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকায়, যা সাত দিন আগে ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। বোতলজাত দুই লিটারের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ থেকে ৩৯৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৮৫ থেকে ৩৯৫ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকায়, যা সাত দিন আগে ছিল ৯২০ থেকে ৯৫৫ টাকা।

মসলার বাজারেও দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬৪০ টাকায়, যা সাত দিন আগে ছিল ৬০০ টাকা। আর লবঙ্গের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ১৪০০ টাকা, যা আগে ছিল প্রায় ১২০০ টাকা।

অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেশি হলেও প্রান্তিক খামারিরা লোকসান গুনে কম দামে ডিম বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খামার পর্যায়ে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় সাড়ে ৯ টাকা, অথচ অনেক খামারি প্রতি পিস ডিম সাড়ে ৬ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে আড়ত ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে সেই ডিমই খুচরা বাজারে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে প্রায় ১১ টাকায়।

খামারিদের অভিযোগ, কিছু বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কারণে একদিকে তারা লোকসানে ডিম বিক্রি করছেন, অন্যদিকে ভোক্তাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন লোকসানের কারণে অনেক ছোট খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রান্তিক খামারগুলো বন্ধ হয়ে গেলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে, যা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই বাড়তি চাপ পড়বে।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার প্রান্তিক খামারি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সোমবার তিনি প্রতি পিস ডিম সাড়ে ৬ টাকায় বিক্রি করেছেন, অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় সাড়ে ৯ টাকা। তিনি বলেন, চার মাস ধরে লোকসানে ডিম বিক্রি করছেন এবং এই ক্ষতি বহন করা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।

একই এলাকার খামারি আব্দুল মালেক জানান, তার খামারে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে। মাসে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ টাকার বেশি। তিন মাস ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

আরেক খামারি আলম হোসেন বলেন, তার খামারে এখনও প্রায় ২০ হাজার মুরগি রয়েছে। কিন্তু বাজারে ডিমের দাম ৬ টাকার নিচে নেমে যাওয়ায় দেড় মাসে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তার মতে, সরকার যদি ডিমের একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ না করে, তাহলে এই খাত বড় সংকটে পড়বে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক খামারিদের পরিশ্রমের কারণেই দেশের মানুষ তুলনামূলক কম দামে ডিম ও মুরগি খেতে পেরেছে। কিন্তু বর্তমানে তারাই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। তিনি বলেন, প্রান্তিক খামারিরা ঝরে পড়লে পুরো শিল্প কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পোলট্রি খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি নানা সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে বাজার ও আড়তে পৃথক বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলারও দাবি জানান তিনি।

অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পোলট্রি খাত গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো না গেলে ছোট খামারিরা দ্রুত হারিয়ে যাবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, আগের তুলনায় দেশে পোলট্রি খামারের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে এই খাত নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট ও নির্ভুল পরিসংখ্যান নেই। দেশে মোট কত পোলট্রি খামার রয়েছে এবং এ খাতে কত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে—সে সম্পর্কেও নির্ভুল তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি অনুমোদিত পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে এই খাত সুরক্ষায় কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।