সাম্প্রতিক শারদীয় দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পরিকল্পিত চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তার দাবি, এর পেছনে ছিল ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ মদদ ও সমর্থন।
রবিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সম্পর্কিত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, “দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তবে জনগণের সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তৎপরতায় সে ষড়যন্ত্র আমরা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি জানান, কয়েকটি পূজামণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি সংযোজনের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার চেষ্টা হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
খাগড়াছড়ির এক ঘটনায় একটি কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সহিংস পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টাও হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মেলেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশে দুর্গাপূজার প্রতিমায় বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার মতে, এটি ‘অসুরের মুখে দাড়ি’ সংযোজনের ঘটনার সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট শক্তির দোসর এবং তাদের কিছু বুদ্ধিজীবী সহযোগী সমাজে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে চেয়েছিল। তবে প্রশাসন, পূজা কমিটি এবং জনগণের সমন্বয়ে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”
খাগড়াছড়ির ঘটনার প্রসঙ্গে ভারতকে দায়ী করলেও, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি উপদেষ্টা। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ভালো জানেন কী হয়েছে,” এবং দেশপ্রেমিক হিসেবে সাংবাদিকদের দৃষ্টিভঙ্গিও জানতে চান।



