tanaka

মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানের ট্রাভার্সি শহরে মার্কিন বিমান বাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিভাগের একটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় বিমানটি...
প্রচ্ছদখেলাঅবশেষে দলের সঙ্গে অনুশীলনে নেইমার, স্বস্তির নিঃশ্বাস ব্রাজিল শিবিরে

অবশেষে দলের সঙ্গে অনুশীলনে নেইমার, স্বস্তির নিঃশ্বাস ব্রাজিল শিবিরে

ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এর চেয়ে সুখবর আর কী হতে পারে! নিউ জার্সিতে দলের অনুশীলন শিবির থেকে বুধবার যে খবর এসেছে, তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য যথেষ্ট। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন নেইমার।

শুক্রবার হাইতির বিপক্ষে ‘সি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বুধবার কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ২৬ সদস্যের দল নিয়ে অনুশীলনে নামেন, তখন সবার নজর ছিল একজনের দিকেই—নেইমার দ্য সিলভা সান্তোস জুনিয়র।

অনুশীলনের শুরুতে সতীর্থদের সঙ্গে হালকা ওয়ার্ম-আপ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে দলের মূল অনুশীলনেও অংশ নেন। তার উপস্থিতিতেই যেন বদলে যায় পুরো শিবিরের পরিবেশ। এর আগের দিন মঙ্গলবারও মাঠে নেমেছিলেন নেইমার, তবে তখন তিনি একাই আলাদা করে বল নিয়ে অনুশীলন করেছিলেন।

মাত্র একদিনের ব্যবধানে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরে আসা ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ঘিরে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। সতীর্থরাও হাততালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। অনুশীলন শেষে নেইমারের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি, আর সেই দৃশ্যই যেন ব্রাজিল শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

কয়েক দিন আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সোমবার পর্যন্ত তার চোটের অবস্থা পর্যবেক্ষণে মেডিক্যাল পরীক্ষা চলেছে। কোচ আনচেলত্তিও রিপোর্টের দিকে নজর রেখেছিলেন। মঙ্গলবার এক মাস পর প্রথমবার মাঠে ফিরে শুধু হালকা দৌড় দিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু বুধবার দেখা গেল আরও বড় অগ্রগতি। গতি বাড়ানো, হঠাৎ থেমে যাওয়া, দিক পরিবর্তন এবং ড্রিবলিংয়ের প্রাথমিক অনুশীলন—সবই করেছেন তিনি।

সান্তোসের হয়ে কুরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে ডান পায়ের কাফে চোট পাওয়ার ঠিক এক মাস পর আবার বল পায়ে দেখা গেল নেইমারকে। স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে ব্রাজিল শিবির এখনও সতর্ক। কোচ আনচেলত্তি কোনো ঝুঁকি নিতে চান না এবং তাড়াহুড়ো করে তাকে মাঠে নামানোর পক্ষেও নন।

পুনর্বাসনের পুরো সময়জুড়ে নেইমার জিম ও রিহ্যাব সেন্টারে নিয়মিত কাজ করেছেন, যাতে তার শারীরিক সক্ষমতা বজায় থাকে। এখন মূল লক্ষ্য তার ম্যাচ ফিটনেস ও সহনশক্তি ফিরিয়ে আনা।

হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। দল ৪-২-৪ কিংবা ৪-৪-২ ফর্মেশনে খেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর প্রথম একাদশে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। বৃহস্পতিবারের অনুশীলনের পরই চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে।

তবে দিনের সবচেয়ে বড় খবর একটাই—নেইমারের মাঠে ফেরা। যদিও অনুশীলনের প্রথম ১০ মিনিট পর তিনি আবার আলাদা হয়ে পুনর্বাসন কার্যক্রমে যোগ দেন। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও হাইতির বিপক্ষে তার খেলার সম্ভাবনা এখনও খুবই কম। ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তবু সেই অল্প সময়ের উপস্থিতিই ব্রাজিল শিবিরে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে। নেইমার হয়তো এখনও খেলতে প্রস্তুত নন, কিন্তু তিনি দলের সঙ্গে আছেন। আর এই উপস্থিতিই ব্রাজিলের জন্য হতে পারে আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় উৎস।