মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয়েছে কুয়েতের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার। ‘এমটি আল দাসমা’ নামের জাহাজটিতে ২১ জন ভারতীয় নাবিকসহ অন্যান্য ক্রু সদস্য ছিলেন। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও সবাই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ট্যাংকারটিতে একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ আঘাত হানে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের বুখা উপকূল থেকে প্রায় ১১ সামুদ্রিক মাইল পশ্চিমে এ ঘটনা ঘটে।
কুয়েতি সংবাদমাধ্যম টাইমস কুয়েত-এর বরাতে জানা গেছে, হামলার পরপরই ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজের ক্রুরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ঘটনার পর জাহাজটি ওই এলাকায় অবস্থান করছে এবং এর সব ক্রু সদস্য নিরাপদে রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল জানান, ২১ অক্টোবর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় কুয়েতের পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার এমটি আল দাসমা অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজে থাকা ২১ জন ভারতীয় নাবিকসহ সব ক্রু সদস্য নিরাপদে রয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এ অঞ্চলে যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও তেল সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।



