tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না: হুমায়ুন কবির

শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না: হুমায়ুন কবির

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, সাধারণ যাত্রীর মতো শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের ঢাকা সফর শেষে তাকে বিদায় জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক থেকে দেশে ফিরেছেন। ফলে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই।

তবে শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রসঙ্গকে হাস্যকর বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের আটক কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রত্যর্পণ চুক্তি ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকায় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও বিদ্যমান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে। তবে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। নিহতের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার আইনজীবীরা।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ কয়েক দফায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পর্যালোচনায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি।

এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লির অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।