tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশতিন বাড়ির দরজায় কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি, ধামরাইয়ে আতঙ্ক

তিন বাড়ির দরজায় কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি, ধামরাইয়ে আতঙ্ক

ঢাকার ধামরাইয়ে রাতের আঁধারে তিনটি বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও গলাকাটা ব্রয়লার মুরগি রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। রহস্যজনক এসব জিনিস দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাতে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

যেসব বাড়ির সামনে এসব সামগ্রী পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো মোসলেহ উদ্দিন, ওয়াহিদ ভূঁইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়ার বাড়ি। এর আগেও একই এলাকার সোহরাব হোসেন সাগরের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে কাফনের কাপড়, আতর ও গোলাপজল রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোররাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাড়িগুলোর প্রধান দরজার সামনে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও গলাকাটা ব্রয়লার মুরগি রেখে যায়। ঘটনাটিকে পূর্বশত্রুতার জেরে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী মোসলেহ উদ্দিন জানান, গত ২০ অক্টোবর তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বসতঘরের খাট, আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ওই ঘটনার সময় অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

মোসলেহ উদ্দিন আরও বলেন, আগুন দেওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর বাড়িসহ আরও দুটি বাড়ির ফটকের সামনে কাফনের কাপড়, সাবান, আতর, গোলাপজল ও গলাকাটা ব্রয়লার মুরগি রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। এতে পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ভুক্তভোগী মুদি দোকানদার সেন্টু মিয়া বলেন, তাঁর বাড়ির সামনেও কাফনের কাপড়, আতর, গোলাপজল ও গলাকাটা মুরগি রেখে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, এসব সামগ্রী রেখে তাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনিও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

অন্য ভুক্তভোগী ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের হিসাব সহকারী ওয়াহিদ ভূঁইয়া রিপন বলেন, প্রতিবেশীর বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি সহযোগিতা করেছিলেন। এ কারণে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা ঘটানো হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তবে কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তিনি জানেন না। বর্তমানে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।