প্রিয় কাউকে মেসেজ পাঠানোর পর অনেকেই বারবার সেটি খুলে দেখেন। কখনো মনে হয়, কোনো শব্দ ভুল লেখা হয়েছে কি না; কখনো আবার উদ্বেগ তৈরি হয়, কথার ধরন প্রাপকের কাছে নেতিবাচকভাবে পৌঁছাবে কি না। এমনকি একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা ইমোজি নিয়েও চলে দীর্ঘ চিন্তাভাবনা। ফলে সাধারণ একটি বার্তাও কারও কারও জন্য মানসিক অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে।
ডিজিটাল যোগাযোগের সময়ে এ ধরনের প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে কাজ করতে পারে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়, অন্যের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা এবং সবকিছু নিখুঁত রাখার মানসিকতা।
পাঠানো মেসেজ বারবার দেখার কারণ কী?
মনোবিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মেসেজ পাঠানোর পর সেটি প্রাপক কীভাবে গ্রহণ করছেন, তা প্রেরকের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি কথার অর্থ কীভাবে বুঝছেন কিংবা কোনো শব্দে ভুল অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন কি না, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় না।
সামনাসামনি কথোপকথনে অন্য ব্যক্তির মুখভঙ্গি ও প্রতিক্রিয়া দেখে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন বা পরিষ্কার করার সুযোগ থাকে। কিন্তু লিখিত বার্তার ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। তাই ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অন্যের কাছে নেতিবাচকভাবে বিবেচিত হওয়ার ভয় থেকে অনেকে পাঠানো মেসেজ বারবার পরীক্ষা করেন।
এ ছাড়া পারফেকশনিজম বা সবকিছু নিখুঁতভাবে করার প্রবণতাও এ অভ্যাসের অন্যতম কারণ। যাঁদের মধ্যে এ ধরনের মানসিকতা রয়েছে, তাঁরা সাধারণ একটি বার্তা পাঠানোর আগেও শব্দ নির্বাচন, বাক্যের গঠন ও ইমোজি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকেন। তাঁদের কাছে স্বাভাবিক যোগাযোগও একসময় চাপের বিষয়ে পরিণত হতে পারে।
বারবার মেসেজ পড়ে দেখলে সাময়িকভাবে দুশ্চিন্তা কমে যেতে পারে। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কারণ মূল উদ্বেগটি বার্তার ভুলত্রুটি নিয়ে নয়; বরং প্রাপক কী ভাবছেন, তা নিশ্চিত হতে না পারার অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি হয়।
এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার উপায়
মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, প্রথমেই মেনে নিতে হবে যে অন্য ব্যক্তি একটি বার্তা কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মেসেজ পাঠানোর পর সেটি বারবার খুলে দেখার পরিবর্তে অপেক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
নিজের বক্তব্যের ওপর আস্থা রাখা এবং প্রতিটি শব্দ নিখুঁত করার চেষ্টা কমানোও প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়ার মানসিক সক্ষমতা এক দিনে তৈরি হয় না; নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তা আয়ত্ত করা সম্ভব।
তবে মেসেজ বারবার পরীক্ষা করার প্রবণতা যদি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, কাজের মনোযোগ কমিয়ে দেয় কিংবা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বার্তা নিখুঁত হয়েছে কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে উদ্বেগ কমার বদলে আরও বাড়তে পারে। তাই প্রতিটি কথার প্রতিক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করাই এ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার ভালো উপায়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



