নিতেশ তিওয়ারীর পরিচালনায় নির্মিত ‘রামায়ণ’ সিনেমাকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে। ছবিতে রামচন্দ্রের চরিত্রে রণবীর কাপুর, সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবী এবং রাবণের চরিত্রে যশ অভিনয় করেছেন। আগামী ৫ নভেম্বর সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের লালগালিচায় রাবণকে নিয়ে সাই পল্লবীর একটি মন্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক।
ভারতীয় সংস্কৃতি ও মহাকাব্য নিয়ে আগ্রহীদের জন্য ‘রামায়ণ’ গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্মাণ বলে মনে করেন সাই পল্লবী। ছবিটি নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, রামায়ণের বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে এটিই সেরা। সিনেমাটির দৃশ্যায়ন ও নির্মাণ নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।
তবে রাবণ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যই সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাই পল্লবীর ভাষ্য, রাবণকে পুরোপুরি খারাপ হিসেবে দেখার পাশাপাশি তাঁর চরিত্র থেকে শিক্ষা নেওয়াও জরুরি। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই অশুভ প্রবণতা থাকতে পারে। সেই দিকটি শনাক্ত করে সময়ের সঙ্গে নিজের ভুল সংশোধন করা প্রয়োজন।
মহাকাব্য থেকে শিক্ষা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, বিশ্বাসী মানুষের নিজের ভেতরের ভালো-মন্দ দিকগুলো নিয়ে আত্মসমীক্ষা করা এবং ভুল শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
তবে রাবণকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাংশ। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, একজন নারী কীভাবে আরেক নারীকে অপহরণকারী চরিত্রের প্রশংসা করতে পারেন?
অন্যদিকে, সাই পল্লবীর বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন অনেকে। তাঁদের একজনের মতে, রাবণের চরিত্রের নেতিবাচক দিকের পাশাপাশি তাঁর ইতিবাচক গুণগুলোও আলোচনায় আসা উচিত। ওই নেটিজেন উল্লেখ করেন, কিছু অঞ্চলে রাবণের পূজা করা হয় এবং সেখানে তাঁর কুশপুতুল পোড়ানোর রীতিও নেই। শিবের ভক্ত, পণ্ডিত ও সংগীতজ্ঞ হিসেবে রাবণের পরিচিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে তাঁর অহংকার ও কামনাই শেষ পর্যন্ত পতনের কারণ হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন ওই ব্যক্তি।
সাই পল্লবীর এক অনুরাগীও অভিনেত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ প্রায়ই মন্তব্যের ভিন্ন অর্থ বের করে বিতর্ক সৃষ্টি করে। সাই মূলত মানুষের ভেতরে থাকা অশুভ প্রবণতাকে চিনে তা জয় করার কথাই বলেছেন।
রাবণকে নিয়ে সাই পল্লবীর মন্তব্যের পর ‘রামায়ণ’ সিনেমাটি ঘিরে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তাঁর বক্তব্যকে কেউ সমালোচনা করছেন, আবার কেউ দেখছেন আত্মসমালোচনা ও নিজের নেতিবাচক দিক সংশোধনের বার্তা হিসেবে।



