গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর তিন বছর পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ইসরাইলের নাগরিকেরা। অধিকৃত পশ্চিম তীরে হামলা বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এ নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিক।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বুথফেরত জরিপ বা এক্সিট পোলের ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হতে পারে।
এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোটের সঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো জোটকে অন্তত ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে হবে।
জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট প্রায় ৫০টি আসন এবং আইজেনকোটের জোট প্রায় ৫৪টি আসন পেতে পারে। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইসরাইলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে নয়, রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে একটি দলকে মোট ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়।
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কী?
ভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যাঁকে সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন, তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানাবেন।
সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি এ জন্য ৪২ দিন সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠন করতে না পারলে দেশটিতে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফলে কোন জোট এগিয়ে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত কে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরাইলের পরবর্তী সরকারের গঠন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
সূত্র: আল-জাজিরা



