হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে তাঁর বাবা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহর আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাশরীফের মা। তাঁর দাবি, স্বামী ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন। ছেলের জনপ্রিয়তা ও সাফল্য মেনে নিতে না পেরে হেদায়েতুল্লাহ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তাশরীফের মা।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হেদায়েতুল্লাহর সঙ্গে সংসার শুরু করার সময়ই তাঁর স্বামীর সাত-আটটি বিয়ে ছিল বলে তিনি জানতে পারেন। পরবর্তী সময়ে জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর বিয়ের সংখ্যা ১৭ থেকে ১৮টি। তাশরীফের ভরণ-পোষণ বা খোঁজখবর নেওয়া হয় না—বাবার এমন অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
তাশরীফের মা বলেন, তাঁর ছেলে ধীরে ধীরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে, কিন্তু এই অগ্রগতি মেনে নিতে পারছেন না তার বাবা। তিনি চাইলে ছেলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সুন্দরভাবে চলতে পারতেন। কিন্তু অন্যদের কথায় প্রভাবিত হয়ে তিনি ছেলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাশরীফ নিয়মিত বাবাকে আর্থিক সহায়তা করতেন বলেও দাবি করেছেন তাঁর মা। তাঁর ভাষ্য, ছেলে প্রতি মাসে বাবাকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদের কারণে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সেই টাকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনার পরই তাশরীফের বাবা ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, আশপাশের লোকজন হেদায়েতুল্লাহকে বলতেন, ছেলে এত উপরে উঠলেও তিনি কেন পিছিয়ে থাকবেন। এসব কথায় প্রভাবিত হয়েই বাবা-ছেলের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
তাশরীফের মা আরও দাবি করেন, ছেলে বাবার বাড়িতে গেলেও ঠিকমতো খাবার পান না। সেখানে তাঁর ছেলের সৎমা রয়েছেন এবং তাঁর পরামর্শেও হেদায়েতুল্লাহ এমন অবস্থান নিয়েছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, তাশরীফ আবার বাবাকে টাকা দেওয়া শুরু করলেই সম্পর্কের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
স্বামীর বিরুদ্ধে অর্থের প্রতি অতিরিক্ত লোভের অভিযোগও তুলেছেন তাশরীফের মা। তিনি বলেন, বাবার বাড়ি থেকে সম্পদ নিয়ে আসার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হতো এবং এ নিয়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ছেলে তাশরীফের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন তাঁর বাবা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে বড় করলেও এখন ছেলে তাঁর খোঁজখবর নেন না। অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
তাশরীফের বাবা-মায়ের বক্তব্যে পারিবারিক সম্পর্ক, আর্থিক সহায়তা ও পারস্পরিক দায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে।



