-
একসঙ্গে ১৪টি ছোট চুম্বক গিলে ফেলেছিল ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী। এতে তার শরীরে দেখা দেয় নানা জটিলতা। পরে মিসরের চিকিৎসকেরা বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই তার পরিপাকতন্ত্র থেকে বাকি নয়টি চুম্বক বের করতে সক্ষম হন। অন্ত্র না কেটেই সম্পন্ন করা হয় এই জটিল চিকিৎসাপদ্ধতি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মিসরের কাফর এল-শেখ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ন্যূনতম কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে কিশোরীর শরীরে আটকে থাকা চুম্বকগুলো বের করেন। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও দক্ষতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
প্রথম প্রচেষ্টায় বের হয় পাঁচটি চুম্বক
চিকিৎসকেরা প্রথমে মুখ দিয়ে একটি বিশেষ নল প্রবেশ করিয়ে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে ঊর্ধ্ব পরিপাকতন্ত্র পরীক্ষা করেন। এ পদ্ধতিতে পাঁচটি চুম্বক বের করা সম্ভব হয়। তবে বাকি চুম্বকগুলো ওই পদ্ধতিতে নাগালের মধ্যে না থাকায় সেগুলো অপসারণ করা যায়নি।
এদিকে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং অন্ত্রে বাধা সৃষ্টির লক্ষণ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেন চিকিৎসকেরা।
অন্ত্র না কেটেই বের করা হলো বাকি নয়টি চুম্বক
পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসাপদ্ধতির অংশ হিসেবে পেটে ছোট একটি ছিদ্র করে অন্ত্রের অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। এরপর অন্ত্রের দেয়াল না কেটেই পায়ুপথ দিয়ে বাকি নয়টি চুম্বক বের করে আনা হয়।
এভাবে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার এড়িয়ে কিশোরীর শরীর থেকে সব চুম্বক অপসারণ করা সম্ভব হয়।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল কিশোরী
সফল চিকিৎসার পর কিশোরী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। পরে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের এ সাফল্য জটিল পরিস্থিতিতে বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহারের একটি উদাহরণ। তবে চুম্বক গিলে ফেলা শিশু-কিশোরদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। একাধিক চুম্বক অন্ত্রের ভিন্ন অংশে আটকে গিয়ে পরস্পরকে আকর্ষণ করলে অন্ত্রের দেয়ালে ছিদ্র, বাধা কিংবা গুরুতর সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই এমন ঘটনা ঘটলে উপসর্গের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
একসঙ্গে ১৪টি চুম্বক গিলে ফেলেছিল কিশোরী, অস্ত্রোপচার ছাড়াই বের করলেন চিকিৎসকেরা



