tanaka

টানা তৃতীয় দিন বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

টানা তৃতীয় দিন বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

প্রচ্ছদজাতীয়সরকারি গাড়ি কেনায় মূল্যসীমা বেঁধে দিল অর্থ মন্ত্রণালয়

সরকারি গাড়ি কেনায় মূল্যসীমা বেঁধে দিল অর্থ মন্ত্রণালয়

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) কেনায় সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ নির্ধারিত সীমার মধ্যেই এসব গাড়ি কিনতে হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পরিপত্র জারি হতে পারে।

নতুন নির্দেশনায় বৈদ্যুতিক গাড়ির মূল্যসীমার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি মানও নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও অফিসের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত কারের সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। গাড়িটিতে কমপক্ষে ৯৫ কিলোওয়াট মোটর পাওয়ার, ৫০ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি, ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জ এবং ৮০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকতে হবে।

গ্রেড-৩ ও তদনিম্ন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য জিপের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। এ ধরনের জিপে কমপক্ষে ১৫০ কিলোওয়াট মোটর পাওয়ার, ৫৫ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি, ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জ এবং ৮০ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকতে হবে।

অন্যদিকে, গ্রেড-২ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য জিপ কেনায় সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা যাবে। এসব গাড়িতে কমপক্ষে ২০০ কিলোওয়াট মোটর পাওয়ার, ৫৫ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি, ৪৩০ কিলোমিটার রেঞ্জ এবং ৮০ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরিপত্র জারির পর থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। অর্থাৎ অনুমোদিত মূল্যসীমার বাইরে গিয়ে কোনো ইভি কেনার সুযোগ থাকবে না।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ক্রয়ের তালিকায় থাকা প্রতিটি বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির জন্য কমপক্ষে আট বছরের ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন বাজেট অনুমোদন ও বরাদ্দ দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শাখাগুলোকে এ মূল্যসীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

নতুন গাড়ি কেনায় আগেই কড়াকড়ি

এর আগে চলতি বছরের ৮ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে বিভিন্ন ধরনের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। সরকারি বাজেটের সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

ওই নির্দেশনায় পরিচালন বাজেটের আওতায় মোটরযান, জলযান ও আকাশযান—সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়। তবে ১০ বছরের পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপন অথবা নবগঠিত প্রতিষ্ঠানের জন্য টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কেনার সুযোগ রাখা হয়।

এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ছাড়া নতুন করে কেনা সব জিপ ও কার অবশ্যই পূর্ণ বৈদ্যুতিক হতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।

এরপর গত ২৫ আগস্ট অর্থ বিভাগে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও গণখাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের মূল্য ও কারিগরি মান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জ্বালানি ব্যয় কমানোর সুযোগ

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনের জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবহন খাতের জ্বালানির বড় অংশই আমদানিনির্ভর। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের পরিবহন খাতে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং সরকারেরও জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে।

চার্জিং অবকাঠামো বাড়ানোর তাগিদ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি পর্যায়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার পাশাপাশি এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও দ্রুত গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে সারা দেশে পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং এসব স্টেশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

তাদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়িতে মানসম্মত ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়টিও কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণে প্রাথমিক পর্যায়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য কিছুটা নীতিগত ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।

এ ছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি, শুল্ক কাঠামো সহজীকরণ এবং আমদানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।