বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। ভারতের উজান থেকে আসা ঢল ও ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেট খুলে দেওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে নদটির পানি বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতেও। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৩৫০ হেক্টর আমন ধান ও সবজির জমি।
দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য দুর্গত পরিবারগুলোর কাছেও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, গত দুই দিনে পাঁকা ও দুর্লভপুর ইউনিয়নে ১১ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। রোববার থেকে খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হবে।
অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন বলেন, পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় প্রশাসন কাজ করছে। আলাতুলি ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের পানিবন্দি ১ হাজার ৮০০ পরিবারের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে মোট ১৮ টন চাল দেওয়া হয়েছে।
বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্গতরা
পানিবন্দি মানুষেরা জানান, দুর্গত এলাকায় সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে। পানির উৎসগুলো ডুবে যাওয়ায় নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়েছে।
এ ছাড়া গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেকে। শুষ্ক জায়গার অভাবে রান্না করা খাবার প্রস্তুত ও খাওয়াতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
সোমবার থেকে পানি কমার সম্ভাবনা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, ভারতের উজান থেকে আসা ঢলের কারণে পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে। শনি ও রোববার পানির প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে। তবে সোমবার থেকে নদীর পানি দ্রুত কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



