সংস্কার সম্পন্ন না হলে নির্বাচন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ নাও করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান। তবে এই ইস্যুতে নাগরিক সমাজ তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ওয়াচ’ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।
ড. রেহমান সোবহান বলেন, সংস্কারের তালিকায় শুরুতে ১৫৮টি প্রস্তাব ছিল, পরে তা কমে ৮২-তে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজানো হয়নি। কোনটি জরুরি, কোনটি অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ—তা পরিষ্কার নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর দিলেই কি তা প্রকৃত সংস্কার হয়ে যায়? তার মতে, সংস্কারের জন্য প্রয়োজন বিস্তারিত পরিকল্পনা, আইন, বাজেট এবং বাস্তবায়ন কাঠামো।
তিনি আরও বলেন, সংসদ তার সংস্কারমূলক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন জরুরি। শুধু সেমিনার নয়, প্রতিটি জেলায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংস্কারের ব্যর্থতা ও বিকৃত বাস্তবায়ন চিহ্নিত করতে হবে। নাগরিক সমাজকে আরও প্রভাবশালী শক্তি হয়ে সংস্কার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে হবে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংস্কার প্রস্তাব মাঝপথে আটকে যাচ্ছে। এটি আকাঙ্ক্ষার ঘাটতি, সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নাকি স্বার্থসংঘাত—সে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তিনি বলেন, দেশের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছে, যার অভিঘাত রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের সবক্ষেত্রেই অনুভূত হচ্ছে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংস্কার চলছে বটে, কিন্তু এর গন্তব্য অজানা। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা দুর্বৃত্তায়িত হয়ে পড়েছে।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বড় আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু করেছিল, তবে এক বছরে সেই আকাঙ্ক্ষা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা মূল্যায়ন জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতিতেও সংস্কার প্রয়োজন—অলিগার্ক নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সবাই বিভিন্ন সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এক বছরে সংস্কার কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার অবশিষ্ট সময়ে তা কতটুকু এগিয়ে নিতে পারবে।
আলোচকরা মনে করেন সংস্কার প্রক্রিয়া সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ছাড়া সফল হবে না। আর নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কার্যকর পরিবর্তনও সম্ভব নয়।



