তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাকস্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ একটি জটিল বিষয়। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ রাজনৈতিক, দার্শনিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে মত প্রকাশ করেন। ফলে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ভারসাম্য নিশ্চিত করতেই সরকার একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও দায়িত্ব—এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে আমরা একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চাই। এটি হবে সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান।”
এর আগে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সত্য উদঘাটন এবং বস্তুনিষ্ঠতা সঠিক সাংবাদিকতার মৌলিক ভিত্তি। জনকল্যাণ সাংবাদিকতার অন্যতম উদ্দেশ্য হলেও সেই লক্ষ্য অর্জনের পূর্বশর্ত হলো তথ্যের সত্যতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কারণ, কোনো পূর্বনির্ধারিত অবস্থান বা উদ্দেশ্য যদি সত্য অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করে, তাহলে সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যের সংকট নয়, বরং তথ্যের অতিপ্রবাহ (Information Overflow) নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে অপতথ্য, বিকৃত তথ্য এবং পরিকল্পিত বিভ্রান্তি গণতন্ত্র, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সাংবাদিকতার প্রধান দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই করে সত্য উদঘাটন করা এবং বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা শুধু তথ্য পরিবেশনের পেশা নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার গণমাধ্যম ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি অপতথ্য মোকাবিলায় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে জহির উদ্দিন স্বপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, এ ক্যাম্পাসে কাটানো দিনগুলো তাঁর জীবনের অন্যতম মূল্যবান সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসা তাঁর মধ্যে গভীর নস্টালজিয়ার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।
সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।



